সাভারে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার ২০২৬ অনুষ্ঠিত: দুধালো মহিষ পালনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা
মহিষকে বলা হয় “Black Gold”। দেশে দুধালো মহিষ পালনের সম্ভাবনা, সমস্যা ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার, ২০২৬।

নিজস্বপ্রতিবেদক, আমার কৃষি | ২৪ অক্টোবর ২০২৬
মহিষকে বলা হয় “Black Gold”। দেশে দুধালো মহিষ পালনের সম্ভাবনা, সমস্যা ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার, ২০২৬। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর, ৮ কার্তিক ১৪৩৩) ঢাকার সাভারে মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম। এরপর দুধালো মহিষ পালনে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন খামারি ও মাঠকর্মীরা। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা তাঁদের বক্তব্য পুরো সেমিনারকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সেমিনারের প্রধান আকর্ষণ ছিল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা। “বাংলাদেশে দুধালো মহিষ খামার স্থাপন: সম্ভাবনা, সমস্যা ও সমাধান” শীর্ষক পর্যালোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ড. মো. ওমর ফারুক ও সহযোগীবৃন্দ। উপস্থাপনায় দেশে দুধালো মহিষ পালনে এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি, বিদ্যমান ঘাটতি এবং ভবিষ্যতের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও নীতি-সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে মহিষ পালন দেশের দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ জীবিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী গবেষক, শিক্ষক, খামারি ও সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ওমর ফারুক মহিষ খাতের উন্নয়নে গবেষক, নীতিনির্ধারক ও খামারিদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় কারিগরি সভা। প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার। এ সেশনে ড. মো. শরিফুল ইসলাম, প্রফেসর, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস, রাজশাহী বিদ্যালয়, উপস্থাপন করেন “Review on Unlocking the Potential of Dairy Buffalo Farming in Bangladesh: Progress, Gaps, and Future Directions” শীর্ষক গবেষণা। বিকেল সাড়ে ৪টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকরা জানান, সেমিনারে উঠে আসা মতামত ও সুপারিশ দেশে দুধালো মহিষ খাতের টেকসই উন্নয়নে কাজে লাগবে।
